শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৫ ।

খালেদাকে চট্টগ্রামে প্রতিহত করা হবে

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের নামে সারা দেশে পেট্রোলবোমা হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে সিটি নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে চট্টগ্রামে আসতে চাইলে তাকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনি বলেন, ‘মনজুর আলম যে দলের মেয়র প্রার্থী সে দলের প্রধান নেত্রী খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে জঙ্গি নেত্রী হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া আইএস জঙ্গির সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। খালেদা জিয়া সারা দেশে পেট্রোলবোমা, অগ্নিবোমা হামলা করে মানুষ হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। বোমা হামলার নির্দেশদাতা খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে চট্টগ্রাম এলে চট্টগ্রামের মানুষ জঙ্গি নেত্রী খালেদা জিয়াকে প্রতিহত করবে।’ শনিবার সন্ধায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলমের প্রতীক কমলালেবুতে যেমন ফরমালিন আছে, একইভাবে মনজুর আলমের লজ্জাতেও ফরমালিন আছে। মনজুর আলম মেয়র থাকার সময় সরকার তাকে সব রকম সহযোগিতা করেছেন। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মনজুর আলমকে ১২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু মনজুর আলম জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিবর্তে চট্টগ্রাম মহানগরীকে হাঁটু পানিতে ডুবিয়েছেন।’

বিধ্বস্ত পাকিস্তান উজ্জীবিত বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচ জেতায় শনিবার দুপুরে সোনারগাঁও হোটেলে স্বভাব-সুলভ হাস্যরসে মেতে উঠলেন মাশরাফি-নাসিররা। অন্যদিকে ভীষণ মুখ ভার করা অবস্থা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের। অতিথি দলের সদস্যরা যতটা পারছেন এড়িয়ে চলছেন সংবাদ মাধ্যম ও ভক্ত- সমর্থকদের। এমন এক সমীকরণের সমানে দাঁড়িয়ে দল দুটি। তবে জয়ের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রোববার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। এ ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে বিটিভি এবং গাজী টিভিতে।

জাতিসংঘ ছাড়া তিস্তা সমস্যার সমাধান অসম্ভব

শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান হবে না। তাই এই অধিকার ফিরে পেতে বাংলাদেশকে জাতিসংঘে যাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত তিস্তা নদী বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ মত তুলে ধরেন। সাউথ এশিয়া ইয়ুথ ফর পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি সোসাইটি এ গোলটেবিলের আয়োজন করে। এসময় জাতিসংঘের সাবেক পানি বিশেষজ্ঞ এন আই খান বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর সমস্যার যেমন সমাধান হয়নি, ঠিক তেমনিভাবে তিস্তা নদী সমস্যারও সমাধান হবে না। তাই এ সমাধান পেতে বাংলাদেশকে জাতিসংঘে যাওয়ার প্রয়োজন।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ব জনমত আমাদের পক্ষে। জাতিসংঘের মাধ্যমে সমুদ্রের ওপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। একইভাবে জাতিসংঘই পারে সম্মানের সঙ্গে তিস্তা পানির সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা করতে।’ তিস্তা সমস্যা সমাধান না হওয়ার পেছনে কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের ব্যর্থতা কথা উল্লেখ করে পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী এনামুল হক সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিস্তা পানি বণ্টনের বিষয়টি তুলে ধরা যেতে পারে। এতদিন এই সমস্যার সমাধান করতে না পারার পেছনে আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদেরও ব্যর্থতা আছে। তবে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেই জাতিসংঘে তুলে ধরতে হবে।’
সিটি নির্বাচনের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। ভোটারদের নজর কাড়তে প্রার্থীরা প্রচারণায় নিচ্ছেন নিত্যনতুন কৌশল। কখনো কথার মারপ্যাঁচ, কখনো আবার রাজপথে দৌড়ে, সাইকেল চালিয়ে, বস্তির শিশুকে কাঁধে নিয়ে চমক দিচ্ছেন তারা। এসবের পাশাপাশি ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচারণা। তবে এতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে প্রচারণা কৌশলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ঢাকার দুই অংশের নির্বাচনী প্রচারণা কৌশল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে আধুনিকতা আর দক্ষিণের প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন সেই পুরনো ধাঁচেই। উত্তরের প্রার্থীরা প্রতিদিনই ভোটারদেরকে আকৃষ্ট করতে নিত্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন। কিন্তু দক্ষিণের প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ আর মাইকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেশিরভাগ মেয়র প্রার্থীই ঘোষণা করেছেন ইশতেহার। মেয়র প্রার্থী মাহী বি চৌধুরী পরিচ্ছন্ন শহর, পরিচ্ছন্ন রাজনীতি স্লোগানে ভোটারদের মন জয় করার জন্য রাজধানীর কালশী এলাকায় রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তারুণ্যের হাতে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ভোট চাইছেন।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে হয় না। পক্ষপাত আচরণ করছে।’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন মওদুদ আহমেদ। শনিবার সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিনি বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরদের নিয়ে প্রথমে বৈঠক করেন, পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মওদুদ আহমদ বলেন, ‘ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ তার কয়েকজন সমর্থককে পোস্টারসহ কে তুলে নিয়ে গেছে। মিরপুর থানার ওসি সবাইকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সকল থানার একই চিত্র।’
রামপুরার হাজিপাড়ার বউবাজারে ঝিলের পানিতে দোতলা টিনশেড বাড়ি দেবে যাওয়ার পর ২০টি পরিবারের প্রায় দেড়শ মানুষের এখন দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। তাদের থাকা-খাওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থাও করা হয়নি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা মনির চৌধুরীকেও আটক করতে পারেনি পুলিশ। দুর্ঘটনাকবলিতরা বলছেন, স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী (ঝুড়ি মার্কা) ঘটনার দিন থেকে এখন পর্যন্ত তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। তিনি কলা, রুটি ও বিরিয়ানি পাঠাচ্ছেন নিয়মিত। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই একটি খালি জায়গায় চারদিক খোলা, ওপরে ত্রিপল দেয়া একটি স্থানে দুর্ঘটনাকবলিত বেশ কয়েকটি পরিবারকে। সেখানেই গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে ঝিলের পানি থেকে উদ্ধার করা মালামাল। তারা জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে এভাবেই থাকতে হচ্ছে তাদের। পাশের একটি খালি ঘরে উদ্ধারকৃত কিছু মালামাল রেখে এখানেই নারী-পুরুষ-শিশু সবাই থাকছেন। ওই দোতলা বাড়িতে যে ২০টি পরিবারের বাস ছিল তাদের সবাই-ই হারিয়েছেন সংসারের সব কিছু।
নাম তার মোদাচ্ছের হোসেন। ছোট্ট একটা সুখের সংসার। চাকরি করেন অফিস সহকারী হিসেবে। বেতন যা পান তাই দিয়ে চলে ভরণ পোষণ। দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার জীবনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। তার চাকরি ওপর নজর পড়েছে এক আওয়ামী লীগ নেতার। অফিসে এসে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে সাদা কাগজে সই নেয়া হয়। এরপর অফিস থেকে সরিয়ে দেয়া হয় ও তার স্বাক্ষরকরা কাগজটি পদত্যাগপত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খামার মুন্দিয়া গাজেম আলী দাখিল মাদরাসার। মোদাচ্ছের হোসেন এ মাদরাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ওই কর্মচারী। সংবাদ সম্মেলনে মোদাচ্ছের হোসেন অভিযোগ করেন, গেল ১২ এপ্রিল সকালে তিনি মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে তার সঙ্গী আব্দুল আজিজ, কবির হোসেন, আলী হোসেন, হাবিবুর রহমান ও সিরাজ উদ্দিনসহ ১০/১২ জন লোকজন তার কাছে আসেন। তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে মাথায় রামদা ঠেকিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
ড্যান কেক তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে জিতে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তবে ১৬ বছর পর পাকিস্তানকে হারানোর ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। মনের মধ্যে দেশসেরা এ ডানহাতি পেসারের কিছুটা হলেও দুঃখ আছে। সাকিবের নেতৃত্ব প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ায় অপেক্ষা দীর্ঘ করতে চান না মাশরাফি। রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করতে চান নড়াইল এক্সপ্রেস।
‘ঢাবির (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থল থেকে অনেকগুলো ছবি তুলেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন- ভিসি স্যারের নির্দেশে ছবিগুলো শেয়ার করতে পারছেন না। কার স্বার্থে ভিসি স্যার ছবিগুলো প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন? তবে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিরাও এ ঘটনায় জড়িত?’-এমনটাই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক। তিনি আরো বলেছেন, ‘এমন বর্বোরচিত ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রক্টর, পুলিশ, ভিসি যখন একই অবস্থান নেন তখন লজ্জিত ও সংক্ষুব্ধ হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকেনা।’ শনিবার দুপুর বারোটায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করে বলা হয়, ‘নববর্ষে নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বারবার মিথ্যাচার করেছেন। মিথ্যার একটা সীমা থাকে কিন্তু প্রক্টর মহোদয়ের মিথ্যাচারের কোন সীমা-পরিসীমা নেই। আমরা দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ-মিথ্যাচারী প্রক্টরের অপসারণ চাই।’ লিখিত বক্তব্যে হাসান তারেক আরো বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে প্রক্টর বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে বারংবার মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেছেন- লিটন নন্দী ছাড়া আর কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই এবং সিসিটিভিতেও প্রমাণ নেই। প্রক্টর আরো বলেছেন- দুপুরের পর থেকে ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে কোনো গাড়ি চলেনি। অথচ এমন মিথ্যাচারের সাক্ষী সেদিনের হাজার হাজার জনতা।’ অভিযোগ তীর পুলিশের দিকেও। অভিযোগে বলা হয়,

বিধ্বস্ত পাকিস্তান উজ্জীবিত বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচ জেতায় শনিবার দুপুরে সোনারগাঁও হোটেলে স্বভাব-সুলভ হাস্যরসে মেতে উঠলেন মাশরাফি-নাসিররা। অন্যদিকে ভীষণ মুখ ভার করা অবস্থা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের। অতিথি দলের সদস্যরা যতটা পারছেন এড়িয়ে চলছেন সংবাদ মাধ্যম ও ভক্ত- সমর্থকদের। এমন এক সমীকরণের সমানে দাঁড়িয়ে দল দুটি। তবে জয়ের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রোববার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। এ ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে বিটিভি এবং গাজী টিভিতে।

হোটেল লবিতে ভিন্ন তামিম

আগের দিন দিবা-রাত্রির ম্যাচ থাকায় রোববার মাঠের কোনো রকম অনুশীলন ছিল না। তাই বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলের ক্রিকেটারদের সময় কেটেছে হোটেলে। শনিবার দুপুরে সোনারগাঁও হোটেলের লবিতে ঢুকতেই দেখা গেল তামিম ইকবালকে ঘিরে দাঁড়িয়ে তার ভক্ত-সমর্থকরা। ছবি এবং সেলফি যেই তুলতে চেয়েছেন তাকে বিমুখ করেনি বাংলাদেশ দলের বা হাতি এ হার্ডহিটার ওপেনার। অন্যসময় হলে এদের হয়ত এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু শনিবার সেটা করেননি। দীর্ঘ দিন পর পাওয়া দুর্দান্ত সেঞ্চুরিই যেন পাল্টে দিয়েছে গম্ভীর তামিমকেও।

ফোর হান্ড্রেড মেসি

রেকর্ড গড়াই যেন তার কাজ। পুরনো যত রেকর্ড ছিল সবই ভেঙেছেন। এবার শুধু নিজেকে নিয়ে যাবেন নতুন নতুন উচ্চতায়। সে ধারাবাহিকতায় আজ আরও একটি মাইলফলক স্থাপন করলেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ৪০০তম গোলের রেকর্ড স্থাপন করে ফেললেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। ন্যু ক্যাম্পে ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হয়ে অসাধারণ এই মাইলফলক স্থাপন করেন মেসি। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে মাইলফলকের গোলটি করেন তিনি। ৪৭১ ম্যাচ খেলে ৪০০ গোলের উচ্চতায় ওঠেন মেসি।

ন্যাপকিন মানেই চিন্তামুক্ত নন!

আজকের নারী অনেক বেশি সচেতন। সব বিষয়ে সচেতনতার সঙ্গে বাড়িয়ে তুলেছে তার কর্মদক্ষতা। কোনো কাজে তার আত্মবিশ্বাসের আভাব নেই। আড়ষ্ঠতায় ঘরের কোনে নারীকে লুকোতে হয় না। আগের দিনে পিরিয়ডের সময় তাকে থাকতে হতো গুটিয়ে। কিন্তু আজ নির্ভরতা আর সাহস জুগিয়েছে স্যানিটারি ন্যাপকিন। পুরনো কাপড় ফেলে স্যানিটারি ন্যাপকিনই এখন একমাত্র ভরসা। অথচ অসংখ্য নারী নানা রকম সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকেন শুধুমাত্র এই স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভুল ব্যবহারের কারণে। দাম দিয়ে কেনা ন্যাপকিন ব্যবহার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে। অনেক বেশি শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন, দীর্ঘ সময় লিকেজ প্রতিরোধ করে এমন প্যাড আরও বেশি ক্ষতি করছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একজন করে মনোনয়ন দেয়া হলেও কোনোভাবেই বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারেনি ক্ষমতাসীনরা। প্রতিটি ওয়ার্ডেই একাধিক প্রার্থী রয়েছে আওয়ামী লীগের। বিদ্রোহীদের কেউ কেউ নিজেকে দলের সমর্থিত প্রার্থী বলে প্রচারণা করলেও অনেকে অবশ্য স্বতন্ত্র বলেই প্রার্থী হয়েছেন। তবে অনেকেই ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আ.লীগের গলায় কাঁটা, সুবিধায় বিএনপি প্রার্থীরা

বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মতোই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে হেফাজতে ইসলাম। অনেকে মনে করছেন, সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনের মতো এবার সিটি নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করবে কওমি মাদরাসাভিত্তিক এ সংগঠন। তবে এবার প্রকাশ্যে কোনো প্রচারণায় নামছে না হেফাজত। যেমনটি নেমেছিল রাজশাহী, গাজীপুর, খুলনা, সিলেট সিটি ও উপজেলা নির্বাচনে। সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে ওলামা ও মাদরাসার ছাত্ররা যার যার অবস্থান থেকে সিটি নির্বাচনের প্রচারাণায় অংশ নেবে। এক্ষেত্রে হেফাজতকে কাজে লাগাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। অবশ্য হেফাজত নেতারা দাবি,তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নেই। এমনকি তারা রাজনৈতিক দলের সমর্থকও নন। তাদের অবস্থান নাস্তিকদের বিরদ্ধে, ইসলামের পক্ষে। এক্ষেত্রে যে দল নাস্তিকদের সমর্থন করে,তারা তাদের বিরুদ্ধে। কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপি সেটা মুখ্য নয়।

বিএনপিকে জেতাবে হেফাজত?

রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। বাঙালি প্রস্তুত বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে। ঐতিহ্যের ধারায় এ দিনের বাহারি বাংলা খাবারের তালিকায় পান্তা-ইলিশ না হলে চলেই না। কিন্তু ইলিশের বাজারে যে আগুন তাতে ইলিশের কাছেই ঘেঁষা যাচ্ছে না। বরাবরের মত এবারও বৈশাখী আয়োজনে বাধ সাধছে ইলিশের দাম। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে ইলিশের আকাশছোঁয়া দাম হাঁকানোটা এখন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র অন্যায়ভাবে দাম বাড়ালেও কোনো কিছুই করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে আইনের নানা মারপ্যাঁচের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীদের টিকিটিও স্পর্শ করা যায় না। বাজার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, আইনে ইলিশের দাম নির্ধারণ করা নেই। তাই ব্যবসায়ীরা যে রকম মূল্য রাখে তার বিরুদ্ধে কিছু করা যায় না। তাই ইলিশের স্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধ করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশের সব জেল, উপজেলায় ইলিশের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। কিন্তু সে মনিটরিং আর হচ্ছে না। মনিটরিং রয়ে গেছে কেবল কাগজে-কলমেই। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে ইলিশের যেমন তীব্র সঙ্কট ঠিক তেমনি দাম হাঁকা হচ্ছে অস্বাভাবিক রকমের বেশি। তবে ইলিশের দেশে ইলিশের এত সঙ্কটের কারণটা কি তাই খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। দামের কথা শুনে বৈশাখী খাদ্য তালিকা থেকে অনেকেই বাদ দিচ্ছেন ইলিশকে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, খিলগাঁও, শান্তিনগর, কারওয়ানবাজার, ধানমণ্ডি, হাতিরপুলসহ আরো কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭০০-৮৫০ গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ হাজার টাকায়। আর ২৫০ গ্রাম ওজনের জাটকা ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকা হালিতে।

ইলিশের বাজারের আগুন নেভাবেন কে?

বাংলা নতুন বছরের শুরুতে হালখাতার আয়োজন করা বাঙালি সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব। বছরের শুরুতে পুরনো বছরের দেনা-পাওনার হিসাব-নিকাশের পাঠ চুকিয়ে নতুন বছরের জন্য নতুন খাতা খোলেন ব্যবসায়ীরা। এ দিনটিতে ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের বাকি টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করেন। ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করোনোর ব্যবস্থা করেন। মোঘল আমলে চৈত্রের শেষের দিকে প্রজারা রাজ-কোষাগারে খাজনা দিতেন। পুরনো হিসেব চুকিয়ে খোলা হতো নতুন খাতা। আর বাকির খাতা শূন্য হওয়ায় রাজ দরবার থেকেও প্রজাদের নানাভাবে আপ্যায়ন করা হতো। সেই থেকে চলে আসছে বাংলা সনের শেষের দিন বা নতুন বছরের প্রথম দিনে হালখাতা আয়োজন করার রীতি। জীবন-যাপনের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে পুরনো সেই হালখাতার ধরনও বদলে গেছে। একটা সময় ছিল শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতা করা হলেও কালে বির্বতনে এখন আর আগের মতো এই রেওয়াজ পালন করা হয় না। তবে এই এতিহ্যবাহী উৎসবকে ধরে রেখেছেন পুরনো ঢাকা ব্যবসায়ীরা। পুরনো ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারি বাজার, ইসলামপুর, চকবাজার ও শ্যাম বাজারের ব্যবসায়ীরা এখনও ধুমধাম করে পুরনো দেনা-পাওনা হিসেবে চুকিয়ে নতুন খাতা খোলেন। এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পহেলা বৈশাখের হালখাতা উৎসব পালন করার জন্য ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান পাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে রেখেছেন। তবে হিন্দু ব্যবসায়ীরা পঞ্জিকা অনুযায়ী হালখাতা পালন করে থাকেন। শাখারি বাজারের শ্রী শ্রী মা ভাণ্ডার জুয়েলারীর স্বত্ত্বাধিকারী স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ কর্মকার বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরের মত এবারও দোকানপাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেছি নতুন বছরের হালখাতা করবো বলে। আর যারা সারা বছর আমাদের দোকানের ক্রেতা তাদের আমন্ত্রণ করেছি। তাদের জন্য মিষ্টিমুখ করার আয়োজন রয়েছে। আমারা প্রতিবারের মত একইভাবে আমাদের ক্রেতাদের আপ্যায়ন করাবো এ দিনটি

হাল আমলে হালখাতা