মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৫ ।

৭ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। দিনের প্রথম দিকেই এ পর্যন্ত ৭টি কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলের জন্যই এসব কেন্দ্র বন্ধ করা হচ্ছে বলা জানা গেছে। বংশাল থানার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুরিটোলা এলাকায় ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নম্বর কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৬৬ নম্বর কেন্দ্র নির্বাচন কমিশন বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা ৬৪ ও ৬৫ নম্বর কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আহাদুজ্জামান। এ কেন্দ্রে পৌনে ৯টার দিকে ভোট গ্রহণ শেষ ঘোষণা দেন প্রিজাইডিং অফিসার শওকত আলী। তিনি বলেন, ‘এ ভোটকেন্দ্রে ভোট আর হবে না।’ অপর প্রিজাইডিং অফিসার নিপিত কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্রের বাক্স ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তাই আমরা ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছি।’ রাস্তায় ভোটাররা অবস্থান করে বিক্ষোভ করছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মীরা বাক্স নিয়ে গেছেন। দক্ষিণ সিটির ৩৭ নং ওয়ার্ডের পোগোজ স্কুলকেন্দ্রে দু’প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পর ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ২ পোলিং এজেন্ট আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন- প্রকাশ শুর (৪০) ও বাদল (৩৯)। তাদের দু’জনেরই মাথা ফেঁটে গেছে। তারা চিকিৎসাধীন।

তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ চলছে

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল আটটায় দেশের দুই প্রধান নগরীর তিন সিটি করপোরেশনে একযোগে ভোট উৎসব চলছে। দীর্ঘ এক যুগ পর ঢাকাবাসি তাদের ভোট প্রয়োগ করছে। মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এবারেই প্রথম বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এটা ভোট ডাকাতির নির্বাচন

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বলেছেন, ‘এই নির্বাচন ভোট ডাকাতির নির্বাচন। সব কেন্দ্র থেকেই আমাদের এজেন্টদের জোর করে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বের করে দেয়া হচ্ছে।’ মঙ্গলবার বেলা ১০টার দিকে সেগুনবাগিচা হাইস্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘লুৎফুন্নেছা একাডেমি কেন্দ্রে আমার ১০ এজেন্টদের মধ্যে ৯ জনকেই গেপ্তার করেছে পুলিশ। আমাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়া হচ্ছে না।’
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। অনেক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। কোথাও কোথাও সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও সাংবাদিকদের বাধা দিচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত গণমাধ্যম কর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শাজাহানপুর মড়েল সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মির্জা আব্বাস মহিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে বাংলামেইলের এ দু’জন প্রতিবেদক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে কর্মরত শাহজাহান পুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল বাংলামেইলসহ উপস্থতি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। কোনো ছবিও তুলতে পারবে না। ওসি স্যারের নির্দেশ আছে।’ এসময় সাংবাদিকরা বলেন আমাদের তো নির্বাচন কমিশন থেকে অনুমতিপত্র রয়েছে। জবাবে মো. সাইফুল বলেন, ‘আপনাদেরকে যে অনুমতি দিয়েছে তাকে বলবেন পুলিশ ছবি তুলতে দিচ্ছে না। তিনি যদি আমাদেরকে বলেন তখন ছবি তুলতে দেয়া হবে।’
১৩ বছর পর ঢাকায় ও ৫ বছর পর চট্টগ্রামে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ দুই মহানগরীর ৬০ লাখ ভোটার আজ নির্ধারণ করবেন তাদের নগরপিতা। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মাঠে আছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১ লাখ সদস্য। ৩ প্লাটুন সেনাসদস্য প্রস্তুত আছেন ব্যারাকে। রিটার্নিং কর্মকর্তার ডাকে মাঠে নামবেন তারা। ঢাকাকে উত্তর ও দক্ষিণ এ দুই অংশে বিভক্ত করার পর এটিই প্রথম নির্বাচন।
ঢাকায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তররার স্কলাস্টিকা ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দিতে দেখা গেছে। এসব ভোট ‍দিচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্করা। তারা ভোট দিচ্ছে মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের ঘড়ি মার্কায়। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জানা গেছে, ভোট শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক পরই জাল ভোট দেয়া শুরু হয়েছে রাজধানীর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল স্কলাস্টিকা উত্তরা শাখার ভোটকেন্দ্রে। সেখানে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ভোট দিতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হকের ঘড়ি প্রতীকেই সিল মারে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকেও দেখা যায় জাল ভোটদানকারীদের সহযোগিতা করতে।
কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সোবহান। আব্দুস সোবহানের প্রতীক লাটিম। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুস সোবহান ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর এটিই প্রথম কোনো ভোট বর্জনের ঘটনা। এদিকে সাদা, গোলাপী ও সবুজ রঙের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যালটে চলছে সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সাদা রঙের ব্যালটে সিটি মেয়র, গোলাপী রঙের ব্যালটে কাউন্সিলরদের জন্য ভোটগ্রহণ চলছে। এছাড়াও সবুজ রঙের ব্যালটে সংরক্ষিত আসনে নারী কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়।
ঢাকা দিক্ষণ সিটি করপোরেশনের খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের একটি খোলা জায়গায় বসে বেশ কয়েকজন অনলাইন গণমাধ্যমকর্মী ল্যাপটপে নিউজ লিখছিলেন। এ সময় রাস্তা দিয়ে ভোট দিতে যাওয়া শতশত ভোটার ল্যাপটপ দেখে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে আকুতির সুরে জাতীয় পরিচয়পত্রটি বাড়িয়ে দেন। তাদের মধ্যে একজন ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ ইসমাইল হোসেন। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘বাবা একটু বের করে দিবেন (ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্র)?’ সাংবাদিকরাও চেষ্টা করেছেন এর একটা সমাধান খুঁজতে। একজন সংবাদকর্মী তাকে নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে। সেখানে গিয়েও সব ভোটার নম্বর ঘেঁটেও তার সিরিয়াল নম্বরটি পাওয়া যায়নি। পরে তিনি সহযোগিতা নিতে যান ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে। তিনিও তার ভোটার নম্বর বের করে দিতে পারেননি। পরে হতাশ হয়েই কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
ঢাকা সিটি করপোরেশনে ভোট উৎসব আজ। সকালের নাস্তা করেই অনেকে ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে আসছেন। কিন্তু সকালের এই উৎসবের আমেজে ভোট গ্রহণ শুরু হতে না হতেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে বলে জানাচ্ছেন প্রিজাইডিং অফিসাররা। বংশাল থানার ২৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এমন অভিযোগ এসেছে সুরিতলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে। মঙ্গলবার পৌনে ৯টার দিকে ভোট গ্রহণ শেষ ঘোষণা করে দেন প্রিজাইডিং অফিসার শওকত আলী। তিনি বলেন, ‘এ ভোটকেন্দ্রে ভোট আর হবে না।’ অপর প্রিজাইডিং অফিসার নিপিত কুমার সাহারে সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্রের বাক্স ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তাই আমরা ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছি।’ রাস্তায় ভোটাররা অবস্থান করে বিক্ষোভ করছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মীরা বাক্স নিয়ে গেছেন।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

সৌম্য ও শহিদের অভিষেক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি মঙ্গলবার শুরু হয়। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছে সৌম্য সরকার ও পেসার মোহাম্মদ শহিদের। ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে সৌম্যকে টেস্ট দলেও জায়গা দেন নির্বাচকরা।

আসলামের অভিষেক, আজমল বাদ

বাংলাদেশের কাছে তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও একমাত্র টি-২০ তে নাকাল হওয়ার পর এবার টেস্ট সিরিজে টাইগারদের মুখোমুখি হয়েছে সফরকারীরা। সংক্ষিপ্ত ক্রিকেটে হারের ক্ষত শুকানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে মিসবাহ-উল হকের দল।

তারকাদের চোখে যোগ্য মেয়র…

মেয়র নির্বাচন নিয়ে চলছে জোর প্রচারণা। রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন এবং তার প্রচারণায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন মিডিয়া এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের তারকারা। নির্বাচিত মেয়রের মধ্যে কোন গুনাবলী দেখতে চান তারা? মেয়র নির্বাচন, পছন্দের প্রার্থী এবং ভবিষ্যৎ নগরপিতা নিয়ে বাংলামেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের বেশ কয়েকজন তারকা-

ত্বক সতেজ প্রাকৃতিক মেকআপ রিমুভারে

রূপের বৈচিত্র্য আনতে ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাদের সাজের ভিন্নতা থাকে। নিজেকে সাজাতে ব্যবহার করি নানা মানের নানা রঙের মেকাআপ। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে আমরা যখন কৃত্রিম সৌন্দের্যের উপর বেশি ঝুঁকে পড়ি তখন প্রতিরক্ষার কিছু ব্যবস্থা রাখা চাই। ত্বকের যত্ন অক্ষুন্ন রাখতে অনুষ্ঠান শেষে দ্রুত মুখ ধুয়ে ফেলা জরুরি। আর তাই মেকআপ উঠানোর উপকরণ কেমিকেল না হয়ে প্রাকৃতিক হওয়া উত্তম। আসুন শিখে নেয়া যাক ঘরে বসে প্রাকৃতিক মেকআপ রিমুভার তৈরির পদ্ধতি।
নেপালে গত শনি ও রোববার কয়েকদফায় আঘাত হানে উচ্চ ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। এতে দু’ সহস্রাধিক প্রাণহানীসহ ব্যাপক ক্ষতি হয় হিমালয়কন্যার। ভূমিকম্পের বিস্তৃতি ছিল ভারত, ভূটান ও বাংলাদেশ পর্যন্ত। ভূমিকম্পের আঘাতে এ তিন দেশেও কমবেশি প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনার। তবে গত দু’দিন আঘাত হানা ভূমিকম্পের মাত্রা ও ক্ষতি আমাদের দেশে কম হলেও সবার মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে শিগগিরই উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানবে- বিশেষজ্ঞদের এমন বক্তব্যের কারণে সিলেট অঞ্চলের লোকজনের মধ্যে এ আতঙ্ক আরো বহুগুণে ছড়িয়ে পড়ে।

৪০ বছরের জন্য রক্ষা পেলো বাংলাদেশ

সিটি করপোরেশন এলাকার উত্তর প্রান্তের এক নম্বর অঞ্চলের দুই ওয়ার্ড ১ ও ১৭। উত্তরা ও খিলক্ষেত এলাকার এই দুই ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক। সেই ভোটাররা ইতোমধ্যে বিচার করে ফেলেছেন প্রার্থীদের মধ্যে কে ভালো, কে মন্দ। ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’- নির্বাচন কমিশনের জনপ্রিয় এ স্লোগান মাথায় রেখে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ভোটাররা। তারপরও তাদের কথা আর আলোচনায় বোঝা গেলো, উত্তরের এক নম্বর অঞ্চলের মেয়র পদে লড়াইটা অন্যান্য অঞ্চলের মতো শুধুই আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হক ও বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কে বেশি এগিয়ে- সে কথা বোঝা না গেলেও, এ কথা স্পষ্ট যে ২৮ এপ্রিলের ‘ব্যালট’ যুদ্ধের প্রধান দুই যোদ্ধা এই দু’জনই। তবে সীমিত হলেও আলোচনায় রয়েছেন মাহী বি চৌধুরী, জোনায়েদ সাকিও। তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকলেও আনিসুল হক ও তাবিথের বেশকিছু ভোট কেটে নিবেন বলে অনেকের ধারণা।

ফ্যাক্টর মাহী-সাকি, আনিস-তাবিথ সমানে সমান

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। হুট করে সিটি নির্বাচনে এলেও প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের দোড়গোড়ায় নিজের নামটিকে এখনো পুরোপুরি পৌঁছে দিতে পারেননি। যে কাজটা সফলভাবেই সম্পন্ন করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক। তবে পরিচিতি ও নিজের প্রচার দক্ষতায় আনিস এগিয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের রেসারেসির প্রভাব পড়তে তার ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকে। ২৬ থেকে ৩৪ নম্বর পর্যন্ত মোট নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৫ এর নির্বাচনী এলাকা ঘুরে এমনটাই জানা যায়। এসব ওয়ার্ডে রয়েছে- রাজাবাজার, মনিপুরী পাড়া, শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, শংকর, রায়ের বাজার এলাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এর মধ্যে শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবেই পরিচিত। তার মধ্যে আবার মোহাম্মদপুরে রয়েছে তিনটি বিহারী ক্যাম্প, যেগুলোও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০১৪ সালে মিরপুরের কালশী বিহারী পল্লীতে হামলার ঘটনা। যার রেশ এখনো রয়ে গেছে অন্যান্য অঞ্চলের বিহারীদের মাঝে।

অপরিচিত তাবিথ, বিদ্রোহীতে বেকায়দায় আনিস

বরাবরই পুরোনো ঢাকায় নির্বাচনী আমেজটা ভিন্ন রকমের। স্থানীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন- সব নির্বাচনেই এখনকার বাসিন্দাদের উৎসাহ একটু বেশিই থাকে। গত কয়েকদিন সেইসব এলাকা ঘুরে দেখা মিললো, নানা মুনির নানা মত। কেউ বলেন দক্ষিণের মেয়র হিসেবে বসবেন ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন। যাকে সমর্থন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মোহাম্মদ হানিফের প্রতি এলাকার মানুষের ভালোবাসার আবেগে সেখানে অনেকাংশেই এগিয়ে সাঈদ খোকন। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দাদের যুক্তিতে এগিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। বাসিন্দাদের যুক্তি- বর্তমান সরকারি দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের কারণে তারা ভোটের মাঠে এগিয়ে রাখতে চাচ্ছেন ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাসকে। তবে সেখানকার বাসিন্দাদের শেষ কথা- যে আমাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবে তাকেই আমরা ভোট দেবো।

আবেগে খোকন, যুক্তিতে আব্বাস