রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৫ ।

বনশ্রীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ যুবক নিহত

রাজধানীর রামপুরায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত দুই যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। রোববার ভোর সোয়া ৪টার দিকে তাদের আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাদের একজনের বয়স ৩৫ ও অন্যজনের ৪০ বছর হবে। রামপুরা থানার এসআই টিপু সুলতান ভোর সোয়া চারটার দিকে বনশ্রী এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দেশব্যাপী চলছে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারের নাশকতার ষড়যন্ত্র এবং বিএনপিসহ জোটের ১০ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরীসহ দেশব্যাপী ৩৬ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি চলছে। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। রোববার ভোর ৬টা থেকে এ হরতাল শুরু হয়। গতকাল শনিবার খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফঅত রহমান কোকো মারা গেলেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপাসন। শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া সন্তান হারানো মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণতন্ত্র ও আইনের স্বার্থে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত জোটের এক বিবৃতিতে এ হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে খালেদার ধন্যবাদ

শোক জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যেভাবে ফিরে গেলেন তাতে অসৌজন্যতা হয়নি বলে মনে করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সমবেদনা জানতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান রাতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন। মারুফ কামাল খান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্থ। তিনি শোকার্ত ও অসুস্থ। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। ঘুম থেকে জেগে যখন তিনি জানলেন প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন, তখন তিনি তাকে আসার জন্য ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ আর বিএনপি, এটা নিয়ে নিশ্চয়ই এরশাদও প্রশ্ন তুলবেন না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এক সময় এ দুই নেত্রীর মধ্যে ছিল বেজায় মিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা এক সঙ্গে বসে কথা বলেছেন, করেছেন হাস্যরসও। কিন্তু এখন সেটা ইতিহাসের পাতায়। কারণ সর্বশেষ তাদের কথা হয়েছিল ২০০৯ সালের ৯ মে। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে ধানমণ্ডির সুধা সদনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানেই কথা হয় দুই নেত্রীর। এরপর গত ২৬ অক্টোবর অবশ্য ফোনে তাদের কথা হয়েছিল। দেশের অস্থিতিশীল অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইদিন সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে ফোন করেছিলেন। তাকে গণভবনে নৈশ্যভোজের আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা। যদিও তা প্রত্যাখ্যান করেন বেগম জিয়া। এর মধ্যেই হয়ে যায় জাতীয় নির্বাচন, বিএনপির বর্জন করা সেই নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
ভাগ্য উন্নয়নে বিদেশ গিয়ে ২৬ দিনের মাথায় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে আলমগীর বেপারী (২৪) নামের চাঁদপুরের এক যুবক। কাতার এয়ারপোর্ট এলাকায় ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। নিহত আলমগীর চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বেপারী বাড়ির সুলতান বেপারীর ছেলে। কাতার থেকে নিহতের লাশ আনার প্রস্তুতি চলছে বলে পরিবার জানিয়েছে। এখন আলমগীরের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। আলমগীরের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তার বাবা সুলতান বেপারী এলাকায় বিভিন্ন লোকের ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করেন। তার ৩ ছেলে, ২ মেয়ে। অভাব অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চলতো। বড় ছেলে আলমগীরকে ধারদেনা করে ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর কাতার পাঠান। আলমগীরসহ অন্যান্যরা ওইদিন কাতার এয়ারপোর্ট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে কাতারের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
একটানা কাজে আজ সামান্য একঘেঁয়ে অনুভূতি কাজ করতে পারে। কারো সামান্য অবহেলাও আজ আপনার সহ্য হবে না। সবার কাছ থেকে সাড়া চাইবেন যতটা আপনার প্রাপ্য। চাওয়া আর পাওয়ায় কিছুটা গড়মিল আপনাকে আজ ভাবিয়ে তুলবে। নিজেকে শান্তনা দেয়ার মানসিকতা গড়ে তুলুন, তাহলে আর কোনো কষ্ট থাকবে না। বেকারদের কারো বিদেশ থেকে ডাক আসতে পারে, মিলে যেতে পারে সুবর্ণ সুযোগ।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে মহাসাড়ম্বরে বিদ্যা ও আরাধনার অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। দু’দিনব্যাপী পূজার প্রথমদিন রোববার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে পূজার্চনা এবং ১০টায় শুরু হবে অঞ্জলি প্রদান। সন্ধ্যা ৬টায় হবে আরতি অনুষ্ঠান। দ্বিতীয়দিন সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট শিল্পীবৃন্দ সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, দু’দিনই জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণ সমাগত পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে। মধ্যরাত পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান থাকবে আলোকসজ্জায় সজ্জিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোলাহলে হল প্রাঙ্গণ থাকবে মুখরিত। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০টিরও বেশি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট জগন্নাথ হল চত্বরজুড়ে বিভিন্ন আইডিয়া ও থিমভিত্তিক প্রতিমা স্থাপন ও মঞ্চ নির্মাণ করেছে। জগন্নাথ হল উপাসনালয়ে হল প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত একটি পূজা ছাড়াও এই উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ থাকবে হলপুকুরে চারুকলা অনুষদের তৈরি বিশাল অবয়বের একটি প্রতিমা। এটি বাংলার লোক ঐতিহ্যের ‘ট্যাপা পুতুলের’ আদলে তৈরি করা হয়েছে।
দেশের চলমান সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জাতীয় সংসদ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে সরস্বতী পূজাকে। রোববার সকালে এটি অনুষ্ঠিত হবে সংসদ ভবনের পাশে অবস্থিত রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। প্রথমবারের মতো এ পূজা সংসদের মেডিকেল সেন্টার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। এ নিয়ে পূজা কমিটি মাসব্যাপী প্রস্তুতিও নিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ আয়োজন সরিয়ে নিতে হয়েছে। সংসদের ডেপুটি সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস এম সাদরুল আহমেদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে সংসদ ভবনে সরস্বতী পূজা বাতিল করা হয়েছে।’ জানা যায়, আইনশৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে পূজার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে দশম সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশন চলাকালীন সময়ে পূজার এমন আয়োজনে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় এটি সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এমপি (বরিশাল-৪) এ পূজার উদ্যোগ নেন। এ জন্য তিনি স্পিকারের অনুমতি চেয়ে পত্রও দেন। পরে স্পিকার বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ চিঠি পাঠান। প্রধানমন্ত্রীও এমন আয়োজনের জন্য সুপারিশ করেন। এ পূজাকে সফল করতে সংসদের অতিরিক্ত সচিব প্রণব চক্রবর্তীকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার আরাফাত রহমান কোকো দুপুরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এক শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এলচের জালে বার্সার গোল উৎসব

একসাথে মেসি-নেইমারের জ্বলে উঠলে প্রতিপক্ষের কী অবস্থা হতে পারে! একবার কল্পনা করে দেখুন! স্প্যানিশ লা লিগায় শনিবার রাতে যারা বার্সার খেলা দেখেননি, তাদের জন্য বলছি- ‘এলচের জালে রীতিমত গোল উৎসব করেছে বার্সেলোনা।’ একসাথে জ্বলে উঠলেন মেসি এবং নেইমার। দু’জনই করলেন জোড়া গোল। একই সঙ্গে গোল এসেছে জেরার্ড পিকে এবং পেদ্রো রদ্রিগুয়েজের কাছ থেকে। এস্টাডিও ম্যানুয়েল মার্টিনেজ ভালেরোয় গিয়ে স্বাগতিক দলটির বিপক্ষে ৬-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে কাতালানরা।

লাল কার্ড দেখলেন রোনালদো

তীয় বারের মত ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার পরই রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, চতুর্থ ব্যালন ডি’অরও জিততে চান। আর তার কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছিলেন, এখনই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে তার প্রিয় শীর্ষের। কিন্তু এ কি! একের পর এক কীসব আজে-বাজে ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন সি আর সেভেন! দলের হার, নিজে গোল না পাওয়ার ঘটনা তো গেল। শেষ পর্যন্ত লাল কার্ডও দেখতে হলো তাকে! স্প্যানিশ লা লিগায় কর্ডোভার বিপক্ষে ম্যাচের আট মিনিট আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বহিস্কার হন সিআরসেভেন। লাল কার্ড দেখার পর বেশ হতাশা আর ক্ষোভের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

চেলসি-ম্যানসিটির লজ্জা

একসঙ্গে বড় লজ্জার মুখোমুখিহোসে মরিনহো-ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি। শনিবার রাতে এফএ কাপের খেলায় রীতিমত পঁচা শামুকেই পা কেটেছে চেলসি আর ম্যানসিটির। দু’দলই হেরেছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের কাছে।

বাধ্য হয়ে নির্বাচন করছি: আহমেদ শরীফ

আহমেদ শরীফ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পরপর তিনবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৪-১৯৮৯)। ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে এ অভিনেতা এবার সভাপতি পদে নির্বাচনে মাঠে নেমেছেন। এর মধ্যে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে বিএফডিসিতে। নির্বাচন ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে আজকের ফেস টু ফেসে কথা বলেছেন আহমেদ শরীফ।

স্টাইলিশ হোন নানা ঢঙের ব্লাউজে

বাঙালি নারীকে শাড়িতেই বেশি মানাই। পোশাকের তালিকায় শাড়ির আকার বড় হওয়ায় তা সুন্দর করে পরতে বেশ বেগ পেতে হয়। শাড়ি পরার অভ্যাস না থাকায় অনেকে এড়িয়ে চলেন। তবে যেকোনো নারী একটি সাদামাটা শাড়িতেও নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। নানা ঢঙের ব্লাউজ পরে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন স্টাইলিশ রূপে। আসুন জেনে নেয়া যাক তেমন কিছু ব্লাউজ সম্পর্কে..
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আইনে মোটরসাইকেলে চালকসহ দুই জন আরোহী বহনের অনুমতি থাকলেও সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে অনির্দিষ্টকালের জন্য তা নিষিদ্ধ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দ্বিচক্রযানটি ব্যবহার করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও এ পদক্ষেপ কতোটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তারচেয়ে বড় কথা হলো- এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কয়েক হাজার খেটে খাওয়া মানুষের পেটে লাথি মারা হলো! বরিশাল, নেত্রকোনাসহ বেশক’টি জেলায় এখন মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন একটি বেশ ভালো পেশা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। অসংখ্য বেকারের এতে কর্মসংস্থান হয়েছে। কয়েক হাজার পরিবার তাদের উপার্জনের উপর নির্ভরশীল। এই নিষেধাজ্ঞা যদি টানা এক সপ্তাহ বলবত থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে তাদের অভুক্ত থাকতে হবে।

কয়েক হাজার মানুষের পেটে লাথি

সচিবালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পেট্রোলপাম্পে বোমা হামলা চালানোর ঘৃণ্য পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জামায়াত-শিবিরকে সহযোগিতা করে ঢাকাকে অকার্যকর করার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা। আইএস এর শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় দেশীয় জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও হিযবুত তাহরীরের মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের কাজে লাগানো হচ্ছে। পাকিস্তানে অবস্থানকারী জেএমবির স্বঘোষিত আমির ইজাজ আহমেদের পরিকল্পনায় এমন আরো ভয়াবহ ছক কষে ইতোমধ্যে সংগঠিত আইএস মতাদর্শের জঙ্গিরা। এ বিষয়ে ডিবির উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘আইএসআইএস’র অর্থে মারাত্মক অস্ত্র সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ক্ষতিসাধন, হুমকি সৃষ্টি ও খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই গ্রেপ্তার জঙ্গি সদস্যদের একমাত্র লক্ষ্য।’

বাংলাদেশে আইএস’র ভয়াবহ ছক

হরতাল-অবরোধে কোনো যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওই গাড়ির মালিককে দেয়া হবে ক্ষতিপূরণের টাকা। ড্রাইভার, সুপারভাইজার, হেলপার বা কোন পরিবহনের শ্রমিক মারা গেলেও দেয়া হবে ক্ষতিপূরণ। কিন্তু যাত্রী মারা গেলে কী দেয়া হবে? এমন প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে নাড়া দিচ্ছে। অবরোধ নাশকতায় কোনো পরিবহনের শ্রমিক মারা গেলে সরকার বা মালিক পক্ষ থেকে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেয়া হয়। কিন্তু কোন পরিবহনের যাত্রী মারা গেলে সরকার বা পরিবহন মালিক পক্ষ থেকে কোন অনুদান দেয়া হয় না।

গাড়ি পুড়লে টাকা, মানুষ পুড়লে কি?

বছরের প্রথম দিনেই ছিল জামায়তে ইসলামীর হরতাল। সেই দিন প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত চার কোটি ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩ বই। কিন্তু নতুন বই পেয়েও অবরোধে ক্লাস করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৫০ শতাংশেরও নিচে নেমেছে। বিশেষ করে যাদের বাড়ি থেকে স্কুল দূরে তাদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না অভিভাবকরাই। শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতির কারণেও পাঠ্দান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে উদ্বিগ্ন আসন্ন এসএসসি পরিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এসএসসি ও সমমানের প্রায় ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীদের আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

জীবনের ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা, বিপর্যস্ত শিক্ষা