শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৫ ।

জাফরুল্লাহর পথসভায় গুলি, ওসিসহ আহত ৭

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি কাজী জাফরউল্লাহর পথসভায় গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিতে ভাঙ্গা থানার ওসিসহ ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের পুলিশ ও স্থানীয় জনতা উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখানে ৬ জনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলাম (৫২), কাউলিবেড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পরারম গ্রামের জাহের মাতুব্বরের ছেলে ফরহাদ মাতুব্বর (৫৫), আজিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তারাইল গ্রামের হাজী ফরমান খানের ছেলে সোবাহান খান (৬৫), সদরপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা ও চরের ঘাট গ্রামের মৃত আহম্মদ আকনের ছেলে ইমারত আকন (৫৬), আড়িয়াল খাঁ গ্রামের আলিমদ্দিনের ছেলে সাহেব আলী মেম্বার (৪৮), কাউলিবেড়া ইউপি মেম্বার ও খাকড়া গ্রামের মৃত শেখ ওসমান মিয়ার ছেলে শাজাহান মিয়া (৫০), পরারম গ্রামের দলিল উদ্দিনের ছেলে জমির মাতুব্বর (৬০)। আহতদের সবার পা ও বুকে জখম হয়েছে। জানা গেছে, সকাল ৮টায় উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ী কুমপাড়া ব্রিজ উদ্বোধন শেষে পথসভা করেন কাজী জাফরউল্লাহ্। এ উপলক্ষে শত শত নেতাকর্মী পথসভাস্থলে উপস্থিত হয়।

তাবিথের কমিটিতে নাম দেখে ক্ষেপলেন মাহী

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটিতে বিকল্প ধারার যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর নাম রাখা হয়েছে। অথচ তিনি নিজেই ঢাকা সিটি উত্তর থেকে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এদিকে ২০ দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নিজের নাম দেখে আশ্চর্য হয়েছেন মাহী বি. চৌধুরী। শনিবার সকালে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি তার অনুভুতি প্রকাশ করেন। বিষয়টি গর্হিত উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আমি একজন মেয়র প্রাথী এবং নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছি।’ মাহী বলেন, ‘আমি সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ২০ দলীয় নির্বাচন পরিচালনার কমিটিতে আমার নাম রাখা হয়েছে। তাবিথ আউয়াল রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ হতে পারেন। কিন্তু তার এমন গর্হিত কাজ করার কথা না।’

গণপিটুনিতে ২ ডাকাত নিহত

সাভারে ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে ডাকাতদলের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে ভার্কুতার বটতলা এলাকার হিন্দুপাড়া গ্রামে ব্যবসায়ী সুনীলের বাড়িতে ডাকাতিকালে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শনিবার ভোরে ভার্কুতার বটতলা হিন্দুপাড়া গ্রামের স্থানীয় ব্যবসায়ী সুনীলের বাড়ির মূলফটক ভেঙে ১০/১২ সদস্যের এক দল ডাকাত ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে আলমারী ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করতে থাকে। এসময় সুনীল ডাকাতির কাজে বাধা ও ডাকাত বলে চিৎকার করলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ডাকাতদলের সদস্যদের ধাওয়া দিয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে গনপিটুনিদেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাত ওই দুই ডাকাত নিহত হয়। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ডাকাতের মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব মিয়া ডাকাতির ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রদেশের পুলিশ প্রধান ফজল আহমেদ শেরজাদ জানিয়েছেন, শহরের নিউ কাবুল ব্যাংকের শাখা অফিসের ফটকের কাছে এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিজের শরীরে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক দ্রব্যে ওই বিস্ফোরণ ঘটান। ওই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। প্রথম হামলাস্থলের মাত্র ৬০ মিটার দূরে ফের হামলা চালান হয়। শহরের এক মাজারের বাইরে তৃতীয় বোমা হামলাটি হয় বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
দফায় দফায় ভাড়া বাড়িয়ে রেলকে স্বনির্ভর করা যাবে না। এজন্য প্রয়োজন রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তিসহ সব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনা। পণ্য পরিবহনে মনোযোগী হলেই রেল স্বনির্ভর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে অনেকের অভিমত।
গত বছর ডিসেম্বরে ভারত সফরের সময় রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল বলে নয়াদিল্লির কাছে অভিযোগ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের সূত্র ধরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদকে তাজমহল পরিদর্শনের জন্য সাধারণ ব্যাটারি চালিত একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে এটি গলফ কার্ট নামে পরিচিত। ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের আগ্রা সফরের সময় যে ব্যক্তিগত গাড়ি দেয়া হয় রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকে এ ধরনের কোনো সেবা দেয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগ্রা ও রাজস্থানের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে।
যে বয়সে স্কুলের সহপাঠীদের সঙ্গে হই-হুল্লোড় করার কথা, বই নিয়ে স্কুলে ছুটে যাওয়ার কথা আর সেই সময়ে ওদের সময় কাটে শ্রম বেচে টাকা উপার্জন করে। কেউ দিন হাজিরাই কাজ করছে। আবার কেউ কোনো কিছু না বুঝে অন্যের কাছে হাত পেতে অর্থ উপার্জন করছে। সেই অর্থ তুলে দিতে হচ্ছে অবিভাবকদের হাতে। তবে এরা স্কুলে যাবার ইচ্ছেও পোষণ করে। শুক্রবার রাতে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে কথা হলে তারা বিভিন্ন ইচ্ছে প্রকাশ করে। ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ার জিহাদ বাংলামেইলকে জানায়, তার বাবার নাম ডাবলু। তাদের কোনো জায়গা জমি নেই। বাবাও অসুস্থ। আয় করার মতো সংসারে তেমন কেউ নেই। তাই দিন হাজিরাই কাজ করতে হচ্ছে। যেদিন কাজে আসে সেদিন টাকা পায়। যেদিন আসে না সেদিন পায় না। স্কুলে যাবার ইচ্ছে আছে। কিন্তু সংসারের আয়ের কথা ভেবে স্কুলে যাওয়া হয় না। শহরের হাট খোলার রুমান বাংলামেইলকে জানায়, তার বাবা রুবেল হোসেন পেশায় চালক। তাদের কোনো খোঁজ-খবর রাখে না। তাই খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য এভাবে নানা জিনিসপত্র বিক্রি করি। যা আয় হয় সেই টাকা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলে। বাবা খোঁজ-খবর নিলে সংসার হয়তো চলতো। স্কুলে যাবার সুযোগ হতো। ছোট শিশু নিসা বাংলামেইলকে জানান, তার মা ডালিয়া এখানে রেখে গেছে। লোকজনের কাছে টাকা চাচ্ছি। তারা টাকা দিচ্ছে। এই টাকা সে তার মায়ের কাছে দিবে বলে জানায়। এই টাকা দিয়ে কী হবে সে জানে না। তবে জানায় মিষ্টি খাবো। আর মায়ের কাছে এই টাকা দেবে। তবে শিশুটির মায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য খোঁজ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সমাজের বিত্তবাদনের এসব অবহেলিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান সমাজের সব মানুষের।
অভিযোগ উঠেছে খুলনা ও বাগেরহাট থেকে ট্রলার ও জেলে ভাড়া করে কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে নির্বিচারে ইলিশ শিকার করছে জেলেরা। রহস্যজনক কারণে লুধুয়া মাছ ঘাটে কোনো ধরনের অভিযানে নামছে না কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস নদীতে অভিযান চালিয়ে চরফলকন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. শিবলীর ৫টি ট্রলার আটক করে রাখলে সেই মৎস্য কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেন। পরে রামগতি ও কমলনগর আসনের এমপি মো. আবদুল্লাহ নির্দেশে জেলা প্রশাসককে আটককৃত ট্রলারগুলো ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে যুবলীগ নেতা আরও বেপরোয়াভাবে প্রশাসনকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে জেলেদের নিয়ে মাছ ধরার জন্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের অত্যাচারে কমলনগর উপজেলা প্রশাসন অসহায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা কোস্টগার্ডের প্রত্যক্ষ মদদে তাদের চোখের সামনে জেলেরা মাছ ধরছে নদীতে। অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাহেবের হাট কোস্টগার্ড কন্টিজেন্ট কমান্ডার মো. আলম জানান, আমরা শুক্রবার নদীতে অভিযান করেনি কিন্তু তবে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।
সাকিবের হুঙ্কারকে অনেকেই পাত্তা দিচ্ছিলেন না। আইপিএল খেলতে যাওয়ার আগে সাকিব যখন বলেছিলেন, ‘এবার আমরাই ফেভারিট এবং এবারই আমাদের সেরা সুযোগ পাকিস্তানকে হারানো।’ সাকিবের এই কথা শোনার পর অনেকেই নাক কুঁচকেছিলেন। ভুরু কপালে তুলে সমালোচনাও করেছিলেন। অথচ, সাকিব আর এমনি এমনিই যে কথাটি বলেননি সেটা বাংলাদেশে আসার আগেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন পাকিস্তানের কোচ ওয়াকার ইউনুস। পাকিস্তান অধিনায়ক আজহার আলিও প্রথম থেকে সুর নরম করে কথা বলছিলেন। শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানরা প্রমান করে দিলেন, যে সত্যি সত্যিই তারা কথা আর কাজে প্রমান করে দেখাতে পারে। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে ৩২৯ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে পাকিস্তানকে ৭৯ রানে হারিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে শির উঁচু করে জানান দিতে পারে, আমরা এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। যে কারও সামনে চোখ রাঙিয়ে কথা বলতে পারি।

সিরিজ জয়ে চোখ সাকিবের

১৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়। প্রথম ম্যাচটিতে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। তাই এখন সিরিজ জয়ের দিকেই দৃষ্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর সেভাবে উদযাপন করতে দেখা যায়নি। আগে থেকেই সবাই যেন জানতো, জয় পাবে। অনেকটা সহজভাবেই জয় ধরা দেওয়ায় বাংলাদেশ সেভাবে আনন্দ-উল্লাসেও মাতেনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠতেই সাকিব বলেন, ‘না, আমরা অনেক কষ্ট করেই ম্যাচ জিতেছি। এ জয়টা অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৬ বছর ধরে তিন ফরম্যাটের কোনটিতেই আমরা পাকিস্তানকে হারাতে পারিনি। এটা অনেক দীর্ঘ সময়। যেভাবে খেলেছি তাতে আমরা খুশি। আমরা একটি দল হিসেবে খেলেছি। যেভাবে ব্যাটিং করেছি তাতে পেশাদারিত্ব ছিল। এছাড়া যেভাবে বোলিং ও ফিল্ডিং করেছি, দুটোই বেশ ভালো হয়েছে। আমরা বেশ খুশি।’

বিয়ের পর মুশফিকের প্রথম...

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬ বছর পর জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এমন অসাধারণ জয়ের ম্যচটিতে সেরা খেলোয়াড় হলেন মুশফিকুর রহিম। বিয়ের পর এটাই প্রথম সেঞ্চুরি সাবেক ওয়ানডে অধিনায়কের। এ কারণে অত্যন্ত খুশী বাংলাদেশের উইকেরক্ষক ব্যাটসম্যান। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে মুশফিকের আগেই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। যদিও তবে তামিমকে টপকে ম্যাচ সেরা হওয়ায় কিছুটা বিস্মিত মুশফিক। তামিম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটাতো যে কেউই বুঝতে পারবে। শেষ ৪-৫ মাস ওকে নিয়ে এতো কথা হচ্ছে। আমি এটা বিশ্বাস করি ওর মতো ব্যাটসম্যান খুবই কমই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

টি-২০ ক্রিকেটে ফিরছেন ক্লার্ক

অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায়জানিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে আরও বেশি মনোযোগ দিতেই ওয়ানডে ছাড়ছেন বলে জানিয়েছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। শুক্রবার সেই তিনিই ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে (টি-২০) ফেরার ঘোষণা দিলেন।

প্রশংসাতে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি

শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য মা-বাবার দায়িত্ব অফুরান। বাচ্চার আদর-যত্ন, প্রয়োজন পূরণসহ খেয়াল রাখতে হয় অনেক বিষয়ে। আদরের সন্তান যেন অতিরিক্ত মায়া পেয়ে অকর্মন্ন না থাকে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরি। জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে দক্ষতার সঙ্গে সব কাজ করা চাই। আর এই দক্ষতা অর্জনে অভ্যাসের চর্চা রাখতে হবে ছোটবেলা থেকে। ছোটবেলায় যেসব বাচ্চা বাবা-মায়ের পরম আদর পেয়েছেন তাদের মানসিকতা হয় যথেষ্ট মমতাশীল। কর্মক্ষেত্রেও আত্মবিশ্বাসী ছেলেমেয়েরা ভালো করে। আর এই আত্মবিশ্বাসের জন্ম হয় ছেলেবেলায়। ছোট ছোট কাজের জন্য বাবা-মায়ের কাছে পওয়া প্রশংসা তাদেরকে এগিয়ে নেয়।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একজন করে মনোনয়ন দেয়া হলেও কোনোভাবেই বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারেনি ক্ষমতাসীনরা। প্রতিটি ওয়ার্ডেই একাধিক প্রার্থী রয়েছে আওয়ামী লীগের। বিদ্রোহীদের কেউ কেউ নিজেকে দলের সমর্থিত প্রার্থী বলে প্রচারণা করলেও অনেকে অবশ্য স্বতন্ত্র বলেই প্রার্থী হয়েছেন। তবে অনেকেই ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আ.লীগের গলায় কাঁটা, সুবিধায় বিএনপি প্রার্থীরা

বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মতোই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে হেফাজতে ইসলাম। অনেকে মনে করছেন, সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনের মতো এবার সিটি নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করবে কওমি মাদরাসাভিত্তিক এ সংগঠন। তবে এবার প্রকাশ্যে কোনো প্রচারণায় নামছে না হেফাজত। যেমনটি নেমেছিল রাজশাহী, গাজীপুর, খুলনা, সিলেট সিটি ও উপজেলা নির্বাচনে। সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে ওলামা ও মাদরাসার ছাত্ররা যার যার অবস্থান থেকে সিটি নির্বাচনের প্রচারাণায় অংশ নেবে। এক্ষেত্রে হেফাজতকে কাজে লাগাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। অবশ্য হেফাজত নেতারা দাবি,তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নেই। এমনকি তারা রাজনৈতিক দলের সমর্থকও নন। তাদের অবস্থান নাস্তিকদের বিরদ্ধে, ইসলামের পক্ষে। এক্ষেত্রে যে দল নাস্তিকদের সমর্থন করে,তারা তাদের বিরুদ্ধে। কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপি সেটা মুখ্য নয়।

বিএনপিকে জেতাবে হেফাজত?

রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। বাঙালি প্রস্তুত বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে। ঐতিহ্যের ধারায় এ দিনের বাহারি বাংলা খাবারের তালিকায় পান্তা-ইলিশ না হলে চলেই না। কিন্তু ইলিশের বাজারে যে আগুন তাতে ইলিশের কাছেই ঘেঁষা যাচ্ছে না। বরাবরের মত এবারও বৈশাখী আয়োজনে বাধ সাধছে ইলিশের দাম। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে ইলিশের আকাশছোঁয়া দাম হাঁকানোটা এখন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র অন্যায়ভাবে দাম বাড়ালেও কোনো কিছুই করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে আইনের নানা মারপ্যাঁচের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীদের টিকিটিও স্পর্শ করা যায় না। বাজার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, আইনে ইলিশের দাম নির্ধারণ করা নেই। তাই ব্যবসায়ীরা যে রকম মূল্য রাখে তার বিরুদ্ধে কিছু করা যায় না। তাই ইলিশের স্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধ করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশের সব জেল, উপজেলায় ইলিশের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। কিন্তু সে মনিটরিং আর হচ্ছে না। মনিটরিং রয়ে গেছে কেবল কাগজে-কলমেই। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে ইলিশের যেমন তীব্র সঙ্কট ঠিক তেমনি দাম হাঁকা হচ্ছে অস্বাভাবিক রকমের বেশি। তবে ইলিশের দেশে ইলিশের এত সঙ্কটের কারণটা কি তাই খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। দামের কথা শুনে বৈশাখী খাদ্য তালিকা থেকে অনেকেই বাদ দিচ্ছেন ইলিশকে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, খিলগাঁও, শান্তিনগর, কারওয়ানবাজার, ধানমণ্ডি, হাতিরপুলসহ আরো কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭০০-৮৫০ গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ হাজার টাকায়। আর ২৫০ গ্রাম ওজনের জাটকা ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকা হালিতে।

ইলিশের বাজারের আগুন নেভাবেন কে?

বাংলা নতুন বছরের শুরুতে হালখাতার আয়োজন করা বাঙালি সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব। বছরের শুরুতে পুরনো বছরের দেনা-পাওনার হিসাব-নিকাশের পাঠ চুকিয়ে নতুন বছরের জন্য নতুন খাতা খোলেন ব্যবসায়ীরা। এ দিনটিতে ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের বাকি টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করেন। ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করোনোর ব্যবস্থা করেন। মোঘল আমলে চৈত্রের শেষের দিকে প্রজারা রাজ-কোষাগারে খাজনা দিতেন। পুরনো হিসেব চুকিয়ে খোলা হতো নতুন খাতা। আর বাকির খাতা শূন্য হওয়ায় রাজ দরবার থেকেও প্রজাদের নানাভাবে আপ্যায়ন করা হতো। সেই থেকে চলে আসছে বাংলা সনের শেষের দিন বা নতুন বছরের প্রথম দিনে হালখাতা আয়োজন করার রীতি। জীবন-যাপনের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে পুরনো সেই হালখাতার ধরনও বদলে গেছে। একটা সময় ছিল শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতা করা হলেও কালে বির্বতনে এখন আর আগের মতো এই রেওয়াজ পালন করা হয় না। তবে এই এতিহ্যবাহী উৎসবকে ধরে রেখেছেন পুরনো ঢাকা ব্যবসায়ীরা। পুরনো ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারি বাজার, ইসলামপুর, চকবাজার ও শ্যাম বাজারের ব্যবসায়ীরা এখনও ধুমধাম করে পুরনো দেনা-পাওনা হিসেবে চুকিয়ে নতুন খাতা খোলেন। এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পহেলা বৈশাখের হালখাতা উৎসব পালন করার জন্য ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান পাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে রেখেছেন। তবে হিন্দু ব্যবসায়ীরা পঞ্জিকা অনুযায়ী হালখাতা পালন করে থাকেন। শাখারি বাজারের শ্রী শ্রী মা ভাণ্ডার জুয়েলারীর স্বত্ত্বাধিকারী স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ কর্মকার বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরের মত এবারও দোকানপাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেছি নতুন বছরের হালখাতা করবো বলে। আর যারা সারা বছর আমাদের দোকানের ক্রেতা তাদের আমন্ত্রণ করেছি। তাদের জন্য মিষ্টিমুখ করার আয়োজন রয়েছে। আমারা প্রতিবারের মত একইভাবে আমাদের ক্রেতাদের আপ্যায়ন করাবো এ দিনটি

হাল আমলে হালখাতা